উত্তর : ব্রিটেনের সাংবিধানিক ইতিহাস পর্যালােচনায় দেখা যায়, একদিকে যেমন মাতৃদেশ ব্রিটেনের স্বার্থরক্ষার জন্য উপনিবেশগুলিকে ব্যবহার ও শােষণ করা হােত, তেমনি অন্যদিকে উপনিবেশগুলিতে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার আইন প্রবর্তন করে জনগণকে ধীরে ধীরে স্বায়ত্ত শাসনের উপযুক্ত করে তােলা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিঘাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত বিভিন্ন উপনিবেশকে কমনওয়েলথের বন্ধনে আব রেখে ডোমিনিয়ন মর্যাদা দেওয়ার নীতি গৃহীত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসীবাদী শক্তির পরাজয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যে মিত্রশক্তি জোটের জয়লাভ, সােভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক জোটের উত্থান, পৃথিবীকে দুইটি নতুন মেরু বলয়ে বিভক্ত করে। এই দুই শক্তি জোটই ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল। আন্তর্জাতিক অনুকূল পরিস্থিতি ও আভ্যন্তরীণ অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ায় অংশতঃ ব্রিটিশ সরকারের সদিচ্ছা অংশতঃ ভারতীয়দের (রাজনৈতিক দলগুলো) স্বাধীনতা লাভের আকাক্ষা ক্ষমতা হস্তান্তরের বাস্তবতা সৃষ্টি করে। বি-উপনিবেশিকরণ নীতি কেবল ব্রিটেনের সদিচ্ছার প্রকাশ ছিল একথা বলা যায় না।

0 Comments