Header Ads Widget

Ticker

6/recent/ticker-posts

ভারতের জাতীয় সংহতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে তুমি তোমার মতামত লেখো।

 ভারতের জাতীয় সংহতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে তুমি তোমার মতামত লেখো।

Ans:  ভারতের জাতীয় সংহতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা : ভারতবর্ষের ঐতিহ্যই হল বিবিধের মাঝে মহান মিলন। ধর্ম, ভাষা, আচার ইত্যাদির পার্থক্য থাকলেও এদেশের সকল মানুষ একটি অখণ্ড ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ—তারা পরিচিত হয়েছে ভারতীয়রূপে। ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’—ভারতের মূলমন্ত্র। ভারতের একটি অমূল্য সম্পদ হল জাতীয় সংহতি। ইংরেজরাই প্রথম ভারতবর্ষের জাতীয় সংহতিতে আঘাত করে। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ইংরেজরা জাতীয়তাবোধকে খণ্ডিত করতে উদ্যত হয়েছিল। তাদের রাজত্বকালে হিন্দু মুসলমান বিরোধ চরম হয়ে ওঠে। এর ফলস্বরূপ দ্বিখণ্ডিত হয় ভারতবর্ষ। বিভিন্ন আন্দোলন যেমন—খলিস্তানি, গোর্খাল্যান্ড, ঝাড়খণ্ড, অসম ও ত্রিপুরা উপজাতিদের আন্দোলন ইত্যাদি জাতীয় সংহতি বিপন্নতার পথকে প্রশস্ত করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ভাষা, ধর্ম ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে যে দ্বন্দ্ব চলছে জাতীয় সংহতির পক্ষে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

জাতীয় ক্ষেত্রে অসংহতি দেখা দেওয়ার অন্যতম কারণ হল ধর্মীয় সংকীর্ণতা। নিজের ধর্মের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ কিন্তু পরধর্মের প্রতি অনাস্থা, বিদ্বেষ ধর্মীয় সংকীর্ণতার জন্ম দেয়, যার ফল হয় মারাত্মক। প্রকৃত ধর্মবোধহীন ধর্মীয় নেতাদের প্ররোচনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিচ্ছে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এইসব নেতারা হাতিয়ার করছে সাধারণ মানুষের সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতাকে। ভারতবর্ষে জাতীয় সংহতি ভাঙার আরও একটি কারণ হল—ভাষা সমস্যা। ভারতে ইংরেজি ও সংস্কৃত ছাড়া ১৪টি আঞ্চলিক ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে শুধুমাত্র হিন্দি রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মনোনীত হয়েছে, যা অন্য ভাষাগোষ্ঠীগুলির মধ্যে তীব্র অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইসব কারণ ছাড়াও জাতিভেদপ্রথা, বর্ণবৈষম্য, উচ্চশ্রেণির মানুষের নিম্ন শ্রেণির প্রতি হেয় আচরণ, সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দেয় যা জাতীয় সংহতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।



Post a Comment

0 Comments